সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসঃ
1968 সালে দানবীর সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেব কর্তৃক প্রদত্ত টাকা দ্বারা গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে বৌলাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। তাঁর বড় ভাই সৈয়দ হামিদুল হক সাহেব বিদ্যালয়ের নামে 34 শতাংশ ভূমি দান করেন। পরবর্তীতে দানকৃত ভূমিতে বিদ্যালয়টি পূণঃ নির্মাণ করার সময় সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেব সহ জনাব আলহাজ হাফেজ ওমর আলী, মোঃ আফতাব উদ্দিন তারা মিয়া, হাজী মোঃ আমির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চেয়ারম্যান, হাজী ফিরোজ আলী, হাজী সফর আলী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবগ ও এলাকাবাসী সাবিক সহযোগিতা করেন। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন 01/01/1968খ্রি. তারিখ হতে 31/12/1969খ্রি. তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। 01/03/1970খ্রি. তারিখ হতে 31/12/1970খ্রি. তারিখ পযন্ত জনাব অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। 01/01/197১খ্রি. তারিখ হতে 01/12/1971খ্রি. পযন্ত জনাব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। 01/01/1972খ্রি. হতে 22/09/2010খ্রি. পযন্ত জনাব মোঃ সফির উদ্দিন অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়টিকে সদর উপজেলায় একটি সম্মানজনক স্থানে রেখে যান। তাঁর অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আঃ বাতেন ফারুকী অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে বিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বতমানে বিদ্যালয়টিতে 1027জন শিক্ষাথী রয়েছে, বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান এতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা এবং সহ-শিক্ষা চালু রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের জমির পরিমাণ 01.02 একর। 1984 সনে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে ‘বৌলাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে জুনিয়র স্তরে প্রথম এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টি 2010 সালে সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভূক্ত হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেবের সুযোগ্য পুত্র দানবীর সৈয়দ আনিছুল হক সাহেব 1984 সালে পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়টি আধুনিকতার ছোঁয়া পায়। 198৫ সালে সৈয়দ আনিছুল হক পাঠাগার নামে একটি পাঠাগার স্থাপন করেন। 2000 সনে এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেবের নামে `বৌলাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এর পরিবর্তে `সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সময় সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেবের সুযোগ্য কন্যা অধ্যক্ষ সৈয়দা নাজ করিম বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। 2001 সাল থেকে সৈয়দ আনিছুল হক সাহেব সরাসরি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির আজীবন দাতা সদস্য ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অদ্যাবধি বিদ্যালয়টির আথিক, অবকাঠামোগতদিক ও জমি দান সহ সাবিক ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বৌলাই জমিদার বাড়ির সদস্যগণ বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়নে সক্রিয় সহযোগিতা করে আসছেন। সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেবের সুযোগ্য কন্যা সৈয়দা দীনা হক সাবেক ডিজি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে নরসু্ন্দা নদী পযন্ত ড্রেন নির্মাণ করে দেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষত 2013 সালে সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট শিল্পপতি, দানবীর সৈয়দ আমিনুল হক সাহেবের দানকৃত অর্থায়নে সৈয়দ আনিছুল হক সাহেবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের একতলা ভবনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ভার্টিক্যালি তিনতলা ভবনে সম্প্রসারণ করা হয়। বিদ্যালয়টির অনেক কৃতি শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-নিখিল চন্দ্র সেন, আঞ্চলিক আইএফএমসি কো-অডিনেটর, আইএফএমসি প্রজেক্ট, যশোর, মোঃ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ, তেজগাঁও মহিলা কলেজ, ঢাকা, ডাঃ মোঃ আঃ হাই, শিশু বিশেষজ্ঞ ও সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ কিশোরগঞ্জ সদর, নীহার চন্দ্র সেন, গবেষণা সহকারী, আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার, সিলেট, মোঃ আল-আমীন রেফায়েত, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) প্রভাষক, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। বিদ্যালয়টি 2013 সালে এসএসসি পরীক্ষায় 99.59% ও 2014 সালে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয় হিসেবে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাদানে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয়টি সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির বিভিন্ন ইভেন্টে ও বির্তক, বিজ্ঞান কুইজ, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। বিদ্যালয়ে স্কাউট, গাল গাইড, রেড ক্রিসেন্ট, বার্ষিক ক্রীড়া, জাতীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আইসিটি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে 2007 সালে ব্যাংক এশিয়া অত্র বিদ্যালয়ে 8,00,000/- (আট লক্ষ) টাকার কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নকল্পে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হাবিবুল হক সাহেবের সুযোগ্যপুত্র বিশিষ্ট শিল্পপতি, দানবীর সৈয়দ আমিনুল হক সাহেবের উদ্যোগে ও নিজস্ব অথায়নে সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তাকল্পে 2,00,00,000/- (দুই কোটি) টাকার স্থায়ী ফান্ড নিয়ে ‘সৈয়দ আমিনুল হক এডুকেশন ট্রাস্ট ’ গঠন করা হয় যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তাছাড়া সৈয়দ আনিছুল হক সাহেবের সুযোগ্য কন্যা সৈয়দা মাহনাজ আরেফিনা হক কর্তৃক এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত প্রতি শিক্ষার্থীকে এককালীন 12,000/- (বার হাজার) টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
| নাম | ক্যাটাগরি | পদবী |
|---|

বাংলা